তেল হাতিয়ে নিয়ে ইরানকে পঙ্গু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, পারবে কি

 

তেল বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ইরানকে দুর্বল করার মার্কিন কৌশল

ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যে বিশ্ব তেলের বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির পাশাপাশি ‘তেল রাজনীতি’ ব্যবহার করে ইরানকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়াই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালি’ এবং ‘খার্গ দ্বীপ’-এর মতো কৌশলগত স্থানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয় এবং ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়েছে। রণতরী, বিশেষ কমান্ডো বাহিনী এবং হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে তারা নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে; যেখানে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিশ্ব অর্থনীতি চাপে পড়ছে, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামো ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশ্লেষক ফ্র্যাংক মুসামার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সফলভাবে জ্বালানি প্রবাহ ও রপ্তানি রুটগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে, তবে ইরান বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তবে তেলের এই আকাশচুম্বী দাম বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post