জ্বালানি সংকটে কৃচ্ছ্রসাধন: অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিসের পথে সরকার
বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতের ওপর তৈরি হওয়া প্রবল চাপ সামলাতে বিশেষ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বা কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম, ডলার সংকট এবং আমদানিতে বাড়তি ব্যয়ের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মাথায় রেখে আপাতত তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদী কৌশল সাজানো হচ্ছে।
সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— কর্মকর্তাদের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালু করা। এছাড়া অফিসের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আনা কিংবা সাপ্তাহিক ছুটি একদিন বাড়ানোর প্রস্তাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি অফিসগুলোতে দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখার নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সব সরকারি সংস্থাকে নিজ নিজ জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে। জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ পরিহারের বিষয়গুলোও আলোচনার টেবিলে রয়েছে। মূলত বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে এবং ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন করেই সরকার বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়।
