সংঘাত থামানোর নেপথ্যে পাকিস্তান: আসিম মুনিরের তেহরান সফরে মিলল শান্তির বার্তা

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: শান্তির পথে বিশ্ব?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ চার দশকের শত্রুতা কাটিয়ে শান্তির পথ সুগম করতে জোরালো ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের ‘শাটল ডিপ্লোমেসি’ বা দফায় দফায় কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ এই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের শান্তিচুক্তির আশা জাগিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আশাবাদী বক্তব্য এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের আকস্মিক তেহরান সফর এই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়েই সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করা। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফর করে মিত্র দেশগুলোকে এই অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেছেন। গত ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতি এবং লেবানন-ইসরায়েল অস্ত্রবিরতির উদ্যোগকে তেহরান ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রায় সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তি সই করতে তিনি প্রয়োজনে ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন। পাকিস্তান এখানে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করায় একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা রূপরেখা চুক্তির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামানোর চাবিকাঠি হতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post