মার্কিন হামলার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইরান: সচল হচ্ছে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি—এমনটিই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ও সাইলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানো হলেও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেগুলো পুনরায় সচল করে তুলছে তেহরান। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মোবাইল লঞ্চার ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখনো অক্ষত রাখতে পেরেছে দেশটি।
এই যুদ্ধের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ‘ডিকয়’ বা ভুয়া লক্ষ্যবস্তু ব্যবহারের কৌশল। এর ফলে মার্কিন ড্রোন বা স্যাটেলাইট অনেক সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলোকে প্রকৃত মনে করলেও আসলে সেগুলো ছিল কেবল বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যম। সিএনএন-এর প্রতিবেদন বলছে, দীর্ঘদিনের টানা হামলার পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক লঞ্চার এখনো কার্যকর। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরান প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫০ থেকে ১০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এই অভিযানকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে দাবি করছেন, কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যের চিত্রটি বেশ ভিন্ন। ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা, যা বাস্তবে এখনো অর্জিত হয়নি। বরং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা থেকে দ্রুত লঞ্চার উদ্ধার করে পুনরায় হামলার জন্য প্রস্তুত করার ক্ষমতা তেহরানের সামরিক কৌশলের দৃঢ়তাকেই প্রকাশ করছে। এই পাল্টাপাল্টি দাবি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার ব্যবধান চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল করে তুলছে।
.png)