ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: উভয় পক্ষের বিজয় দাবি ও শান্তির নতুন সম্ভাবনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মজার ব্যাপার হলো, এই যুদ্ধবিরতিকে দুই পক্ষই নিজ নিজ বিজয় হিসেবে উদযাপন করছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণেই এই কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে, ট্রাম্পের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি যে কাজ করেছে, তার প্রমাণ হিসেবে ওয়াশিংটন এই সমঝোতাকে সামনে নিয়ে আসছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তাদের মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো মাত্র ৩৮ দিনেই অর্জন করেছে, যা ছিল তাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দ্রুত। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে পারা মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লেভিটের মতে, এই সামরিক সাফল্যই এখন দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত করেছে।
অপরদিকে, ইরান এই যুদ্ধবিরতিকে দেখছে তাদের সামরিক সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে। তেহরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে তাদের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় তারা এখন দুই সপ্তাহের এই সাময়িক বিরতিতে সম্মত হয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো রণক্ষেত্রে পাওয়া সাফল্যকে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া। এই লক্ষ্যেই তারা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই দুই সপ্তাহের বিরতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমিয়ে স্থায়ী কোনো সমাধানের দিকে নিয়ে যায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
.png)