ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: আলোচনায় মার্কিন ‘ডুমসডে প্লেন’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে মার্কিন আকাশে রহস্যময় ‘ডুমসডে প্লেন’ বা ই-৪বি নাইটওয়াচ (Boeing E-4B Nightwatch) বিমানের উড্ডয়ন নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সোমবার নেব্রাস্কার অফুট বিমান ঘাঁটি থেকে এই শক্তিশালী বিমানটিকে বেশ কয়েকবার চক্কর দিতে দেখা যায়।
এই বিমানটি সাধারণ কোনো যুদ্ধবিমান নয়, একে বলা হয় ‘উড়ন্ত পেন্টাগন’। মূলত পারমাণবিক যুদ্ধ বা ভয়াবহ জাতীয় সংকটের সময় যখন স্থলভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়, তখন এই বিমানটি আকাশ থেকেই পুরো দেশের সামরিক ও প্রশাসনিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের নির্দেশনা দিতে পারেন।
কেন এই বিমানটি এখন আলোচনায়?
ট্রাম্পের আলটিমেটাম: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে শান্তি পরিকল্পনায় রাজি হওয়ার জন্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়সীমা পার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিমানটির উড্ডয়ন সামরিক প্রস্তুতির সংকেত দিচ্ছে।
বিধ্বংসী সক্ষমতা: বিমানটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস (EMP) সহ্য করতে সক্ষম। এতে ১৮টি বাঙ্ক, কনফারেন্স রুম এবং ৬৭টি স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা রয়েছে যা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, এই বিমানটির মহড়া সেই যুদ্ধের প্রস্তুতিরই একটি অংশ। যদিও নিয়মিত মহড়ার অংশ হিসেবেও এটি উড়তে পারে, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি ইরানের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
.jpg)