মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ: ইসরায়েলের আরজি ও ট্রাম্পের নমনীয়তা কি কাজ করবে?


 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: আলোচনার প্রস্তাব ও তেহরানের অস্বীকৃতি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এই মুহূর্তে যুদ্ধের বদলে কূটনীতিতে মনোনিবেশ করছে বলে মনে হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে তাঁর নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন।

হোয়াইট হাউসের দাবি অনুযায়ী, তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা জারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা ইরানের নেই।

ইরান মূলত সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করতে চাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ইসলামাবাদে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছেন। ইরান তাদের অবস্থান ও দাবিগুলো পাকিস্তানের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একদিকে ইসরায়েলের যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার দাবি এবং ইরানের সরাসরি বৈঠক প্রত্যাখ্যান—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post