Gemini said
গোপন প্রযুক্তি রক্ষায় নিজেদের বিমান ওড়ালো যুক্তরাষ্ট্র: উদ্ধার অভিযানের নেপথ্য কাহিনী
ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের পাইলটদের উদ্ধারে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদেরই অত্যন্ত দামি ও উচ্চপ্রযুক্তির দুটি বিশেষ বিমান ধ্বংস করতে হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত এমসি-১৩০জে (MC-130J) কমান্ডো টু সংস্করণের বিমানগুলো মরুভূমির বালিতে আটকে গিয়ে অকেজো হয়ে পড়লে পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইরানি বাহিনী যখন চারদিক থেকে ঘিরে ফেলছিল, তখন মার্কিন কমান্ডোরা বাধ্য হয়ে নিজেদের বিমানে বোমা মেরে সেগুলো উড়িয়ে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
নিজেদের বিমান ধ্বংস করার পেছনে প্রধান কারণ ছিল সামরিক গোপনীয়তা ও উন্নত প্রযুক্তি রক্ষা করা। প্রতিটি এমসি-১৩০জে বিমানের বাজারমূল্য ১০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। এগুলোতে অত্যন্ত সংবেদনশীল যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন এবং অত্যাধুনিক সেন্সর থাকে। এই প্রযুক্তিগুলো যদি একবার শত্রু বাহিনীর হাতে চলে যেতো, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ত। তাই সরঞ্জামের আর্থিক মূল্যের চেয়ে প্রযুক্তির গোপনীয়তা নিশ্চিত করাকেই মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর আগেও ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার অভিযানের সময় পাকিস্তানে বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টারটিও যুক্তরাষ্ট্র একইভাবে ধ্বংস করেছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিকূল পরিবেশ ও ইরানি বাহিনীর বাধা সত্ত্বেও আহত বিমান সেনাকে সফলভাবে পাহাড়ের গভীর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় সিআইএ সুকৌশলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ইরানি বাহিনীকে ধোঁকা দেয়, যা অপারেশনটি সফল করতে সাহায্য করে। সরঞ্জাম হারানোকে ইরান 'লজ্জাজনক পরাজয়' হিসেবে দাবি করলেও, মার্কিন বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল জীবন বাঁচানো এবং প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
.png)