যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানে হামলা: লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
ইরানের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পরপরই শোধনাগারটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তা দলগুলো দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও তেলের অবকাঠামো ও শোধনাগারের যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের সংবাদমাধ্যম ‘শানা’ জানিয়েছে, হামলাটি স্থানীয় সময় সকালে অত্যন্ত অতর্কিতভাবে চালানো হয়। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এই হামলার ঘটনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এ ধরনের হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত, তবে এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।
সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, এই হামলার পেছনে ইসরায়েলের হাত রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি সরাসরি তা অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই হামলার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে যুদ্ধবিরতির এই নাজুক সময়ে এমন একটি স্পর্শকাতর জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আবারও উসকে দিতে পারে। কারা এই হামলার মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে, তা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
.png)