গরমে পানিশূন্যতার ঝুঁকি ও শরীর রক্ষায় যা জানা জরুরি
তীব্র তাপদাহে শরীরের অন্যতম প্রধান শত্রু হলো পানিশূন্যতা। আমাদের দেহকোষের গঠন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে পানির বিকল্প নেই। পানিশূন্যতা কেবল সাধারণ তৃষ্ণা নয়, বরং এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
পানিশূন্যতার প্রধান ক্ষতিকর দিকগুলো হলো:
প্রাথমিক উপসর্গ: শরীরে পানির অভাব হলে শুরুতেই মাথাব্যথা, মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটা এবং ঝিমুনি ভাব দেখা দেয়। এর ফলে কাজে মনোযোগ কমে যায় এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে।
কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের জটিলতা: পর্যাপ্ত পানি না খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়। প্রস্রাব গাঢ় রঙের হওয়া বা পরিমাণ কমে যাওয়া বিপদের লক্ষণ। দীর্ঘমেয়াদী পানিশূন্যতা থেকে প্রস্রাবে ইনফেকশন এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ: শরীরে পানি কমলে রক্তের জলীয় অংশ কমে যায়, ফলে রক্তচাপ (Blood Pressure) দ্রুত কমে যেতে পারে। এই অবস্থায় শরীর সচল রাখতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা হার্টের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।
পরিপাক ও মস্তিষ্ক: পানির অভাবে হজমে সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। পানিশূন্যতা প্রকট হলে মানুষ জ্ঞান হারানো বা অসংলগ্ন কথা বলার মতো মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে পারে।
গরমে সুস্থ থাকতে তৃষ্ণা পাওয়ার আগেই নিয়মিত পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি রাস্তার খোলা শরবত বা অস্বাস্থ্যকর পানীয় এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ তা ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে পানিশূন্যতাকে আরও ত্বরান্বিত করে।
.png)