পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প: নেপথ্যের গল্প
ইরানে ভয়াবহ হামলার হুমকি থেকে আপাতত সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বড় সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক অনুরোধ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বিশেষ আহ্বানে সাড়া দিয়ে ট্রাম্প আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে সম্ভাব্য বোমাবর্ষণ ও ধ্বংসাত্মক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি মূলত একটি দ্বিপাক্ষিক সুযোগ। তবে এর জন্য প্রধান শর্ত হচ্ছে—ইরানকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণভাবে খুলে দিতে হবে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছে, তাই এখন কূটনৈতিক পথে স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
এই সংকটের সমাধানের জন্য ইরান একটি ১০ দফার প্রস্তাব দিয়েছে, যাকে ট্রাম্প আলোচনার জন্য ‘শক্তিশালী ভিত্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, আগামী ১৪ দিন একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত সময়। অথচ এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্পের সুর ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, ‘একটি প্রাচীন সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’। পাকিস্তানের সময়োপযোগী মধ্যস্থতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের রক্তক্ষয় থেকে রক্ষা পেল মধ্যপ্রাচ্য। ট্রাম্প এখন এই সমস্যার সমাধানের পথকে তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় বলে মনে করছেন।
.png)