মধ্যপ্রাচ্যে ফের রণক্ষেত্র: লেবাননে ২৫০ জনেরও বেশি নিহত, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি!

 

লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন: হুমকির মুখে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই লেবাননে স্মরণকালের ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে চালানো এই তাণ্ডবে নিহতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১১০০ পার হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এই হামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। চুক্তির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এবং ইরান দাবি করেছে, সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একে সরাসরি ‘চুক্তি লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের এই অভিযান যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়। নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে নির্মূল করতে লেবাননের যেকোনো স্থানে হামলা অব্যাহত থাকবে।

ইসরায়েলের এই অনড় অবস্থানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া অবিলম্বে লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পরিস্থিতিকে ‘দ্বিতীয় গাজা পরিস্থিতি’ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে উদ্বেগ জানিয়েছেন। কাতার ও তুরস্ক এই হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে সংঘাতকে আরও ভয়াবহ ও বিস্তৃত রূপ দিতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post