Gemini said
আদানি বিদ্যুৎ চুক্তি: গলার কাঁটা সরাতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার
ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিতর্কিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত পুনর্বিবেচনা করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ২০১৭ সালে হওয়া ২৫ বছর মেয়াদী এই চুক্তিতে বিদ্যুতের অতিরিক্ত দাম এবং অস্বাভাবিক সব শর্ত থাকায় এটি এখন দেশের অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা বা ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণ জমা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও আইনজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি চুক্তিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছে। কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা এই চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বর্তমানে এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার প্রধানত দুটি উপায় বিবেচনা করছে:
প্রথমত: আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে গিয়ে চুক্তির বিতর্কিত এবং একপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে আইনি লড়াই করা।
দ্বিতীয়ত: সরাসরি আদানি পাওয়ারের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম কমানো এবং চুক্তির কঠিন শর্তগুলো সংশোধন করা।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও শুরু থেকেই এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য নিয়ে জনমনে এবং বিশেষজ্ঞ মহলে ব্যাপক সমালোচনা ছিল।
.png)