মধ্যপ্রাচ্য সংকট: যুদ্ধের এক মাসে ৩ লাখ টনের বেশি জ্বালানি এল বাংলাদেশে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার মাঝেও গত এক মাসে বাংলাদেশে ৩ লাখ ২৭ হাজার টনের বেশি জ্বালানি তেল আমদানিকৃত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে চরম ঝুঁকি থাকলেও বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
জ্বালানি আমদানির চিত্র:
জাহাজে আসা তেল: গত এক মাসে মোট ১১টি জাহাজে করে জ্বালানি দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল, ২২ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল।
পাইপলাইনে আমদানি: জাহাজের পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ২২ হাজার টন ডিজেল দেশে আনা হয়েছে।
প্রধান চালানসমূহ: যুদ্ধের পর প্রথম জাহাজ ‘এমটি ওরিয়েন্টাল গ্রিনস্টোন’ ৩ মার্চ দেশে আসে এবং সর্বশেষ ‘এমটি ইউয়ান জিং হে’ জাহাজটি গতকাল শুক্রবার বন্দরে ভিড়েছে।
সরবরাহে অনিশ্চয়তা: যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পারস্য উপসাগরে অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত অন্তত ৮টি জাহাজ সময়মতো বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি, যার মধ্যে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত উভয় ধরনের তেল ছিল। এই ঘাটতি পূরণে বিপিসি এখন ভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছে। বর্তমানে আমদানিকৃত এই তেলের বড় অংশই সরবরাহ করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপ্যাক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
.png)