Gemini said
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এশিয়ার ৯০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে শুরু করে বড় বড় কলকারখানায়।
এশিয়ায় জ্বালানি হাহাকার ও কৃচ্ছ্রসাধন: জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার কর্মীদের 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বা কর্মসপ্তাহ কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি বিশাল মজুত থাকা সত্ত্বেও চীনে তেলের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল হাজার মাইল দূরে হলেও এর আঁচ লেগেছে এশিয়ার প্রতিটি নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে।
ভারতের ওপর প্রভাব ও শ্রমিকদের হাহাকার: সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে ভারত। গুজরাটের বিখ্যাত সিরামিক শিল্প গ্যাসের অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। ভারতের প্রয়োজনীয় এলপিজি-র (LPG) সিংহভাগই আসত এই জলপথ দিয়ে। বর্তমানে মুম্বাইয়ের রেস্তোরাঁগুলোর বড় একটি অংশ বন্ধ হয়ে গেছে অথবা মেনু থেকে বাদ পড়েছে সময়সাপেক্ষ খাবারগুলো। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের জন্য দেশজুড়ে এখন দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
সারসংক্ষেপ: তেলের দাম বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতায় বিশ্ব অর্থনীতি এখন টালমাটাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর। ততক্ষণ পর্যন্ত এশিয়ার কোটি কোটি মানুষকে এই অনিশ্চয়তা ও বাড়তি খরচের বোঝা বইতে হবে।