ইরানের পাল্টা জবাবে লণ্ডভণ্ড মার্কিন সামরিক ঘাঁটি: মধ্যপ্রাচ্যে কি কমছে আমেরিকার প্রভাব?


 

ইরানের পাল্টা হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি এখন খাদের কিনারায়

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানের চালানো বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক আধিপত্য বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই অঞ্চলে অবস্থিত অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বর্তমানে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে প্রায় ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়েছে। গত মাসে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনেও এই ঘাঁটিগুলোকে বর্তমানে ‘বসবাসের অনুপযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ঘাঁটিগুলো এখন মার্কিন বাহিনীর জন্য সুরক্ষার চেয়ে উল্টো ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে যে, সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে নেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব। পেন্টাগন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে। এমনকি সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাসে ইরান অত্যন্ত সুকৌশলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোগুলোকে অকেজো করে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে জনসম্মুখে নীরব থাকলেও, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। এই বিপর্যয়ের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা এবং দীর্ঘদিনের সামরিক আধিপত্য কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post