যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কে ফাটল: প্রভাব কি হারাচ্ছে ওয়াশিংটন?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা এখন এক বড় সংকটের মুখে। ওয়াশিংটন ও ইউরোপের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের সমীকরণটি এখন উল্টে যাচ্ছে। মূলত ইউরোপের যতটুকু যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন, তার চেয়ে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের জন্য ইউরোপকে পাশে রাখা অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।
১৯৪০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইউরোপকে সামরিক সুরক্ষা দিয়ে আসছিল এবং কমিউনিজমের হাত থেকে এই অঞ্চলের অভিজাত শ্রেণিকে রক্ষা করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে ইউরোপীয়রা যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিভাবকত্বকে মেনে নিলেও তাদের মনে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন ক্ষোভ ছিল প্রবল। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যখনই কোনো কৌশলগত দুর্বলতা দেখাচ্ছে, ইউরোপীয় দেশগুলো সেই সুযোগটি গ্রহণ করছে। তারা এখন আর কেবল আবেগ বা পুরনো বন্ধুত্বের খাতিরে ওয়াশিংটনের সব নীতি অন্ধভাবে সমর্থন করছে না।
এর সবচেয়ে জোরালো উদাহরণ হলো ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হঠাৎ করেই এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। যারা মনে করেন ট্রান্স-আটলান্টিক জোট চিরকাল অটুট থাকবে, তাদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন অনেক বেশি স্বার্থসচেতন ও সতর্ক হয়ে উঠছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটছে। এই পরিবর্তনটি স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে ওয়াশিংটন হয়তো ইউরোপের ওপর তার দীর্ঘদিনের একক প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ ক্রমান্বয়ে হারাতে শুরু করেছে।
.png)