বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা: হরমুজ প্রণালি ও ড্রোন হামলায় কোণঠাসা মার্কিন পরিকল্পনা।


 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: আধিপত্যের মুখে টিকে থাকাই যেখানে বড় জয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এখন ষষ্ঠ সপ্তাহে গড়িয়েছে। শুরুতে একে ‘নির্ভুল ও শক্তিশালী সামরিক অভিযান’ বলা হলেও বর্তমানে তা এক জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটে রূপ নিয়েছে। মূলত মার্কিন শক্তির ওপর অতি-আত্মবিশ্বাস এবং ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল বুঝতে ভুল করাই এই অচলাবস্থার প্রধান কারণ।

বিশ্লেষণের মূল পয়েন্টগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • ভুল রণকৌশল ও অবমূল্যায়ন: যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল শক্তিশালী হামলার মুখে ইরান দ্রুত হার মানবে এবং দেশটির জনগণ সরকার পতনের আন্দোলনে নামবে। বাস্তবে এর উল্টোটি ঘটেছে। সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান সফলভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

  • অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক প্রভাব: এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং একটি বিরল বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন তার ইউরোপীয় বা উপসাগরীয় মিত্রদের সরাসরি এই যুদ্ধে টানতে ব্যর্থ হয়েছেন।

  • রাজনৈতিক বাস্তবতা: বোমা হামলার মুখে কোনো দেশের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে সরকার পতনের ঝুঁকি নেয় না—আমেরিকার এই সাধারণ হিসাবটি কাজ করেনি। বরং বাইরের দেশের আক্রমণ ইরানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

  • বিজয়ের ভিন্ন সংজ্ঞা: যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিজয় মানে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু ইরানের মতো দেশ, যারা দশকের পর দশক নিষেধাজ্ঞা সয়ে নিজস্ব কৌশল তৈরি করেছে, তাদের কাছে বিজয় মানে হলো—যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির সর্বাত্মক চাপের মুখেও নিজের শর্তে টিকে থাকা।

পরিশেষে, এই যুদ্ধটি এখন শুধু অস্ত্র বা শক্তির লড়াই নয়, বরং এটি আদর্শিক ও কৌশলের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, যার কোনো সহজ সমাধান আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

Post a Comment

Previous Post Next Post