আকাশপথে হামলা ও ইরানি প্রতিরোধের বাস্তবতা: একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাগুলো কেবল সামরিক সংঘাত নয়, বরং একটি জাতির সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিদেশি শক্তির চাপ ইরানি জনগণের মধ্যে সরকারবিরোধী বিদ্রোহের বদলে জাতীয় ঐক্যের জন্ম দিচ্ছে।
মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ভুল কৌশল: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভেবেছিল আকাশপথে নির্বিচার হামলা চালিয়ে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলবে। কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য হলো, যখন কোনো জাতির ওপর বোমা পড়ে, তখন তারা মুক্তিদাতা হিসেবে হামলাকারীদের গ্রহণ করে না, বরং আগ্রাসনকারী হিসেবেই দেখে।
রাষ্ট্রের কাঠামো: পশ্চিমা বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন শীর্ষ নেতৃত্বকে সরালেই রাষ্ট্র ভেঙে পড়বে। বাস্তবে ইরানের ক্ষমতার কাঠামো অত্যন্ত জটিল এবং বহু কেন্দ্রে বিভক্ত, যা সহজে ধসে পড়ার মতো নয়।
জাতি ও রাষ্ট্রের ঐক্য: নির্বিচার বিমান হামলায় যখন বেসামরিক মানুষ, হাসপাতাল ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও জাতির পার্থক্য মুছে যায়। মানুষ তখন নিজের দেশকে রক্ষা করাকেই অগ্রাধিকার দেয়।
দমননীতির কঠোরতা: এ ধরনের যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্র সাধারণত অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের আরও কঠোরভাবে দমন করে এবং শাসনব্যবস্থাকে আরও বেশি সামরিকীকরণ করে।
মানবিক বিপর্যয়: ১৯৮০ সালে সাদ্দাম হোসেনের লিফলেট বিলি আর বর্তমানের ড্রোন হামলা একই দর্শনের অংশ—জনগণকে কষ্ট দিয়ে দাবি আদায় করা। কিন্তু ইতিহাস বলে, নিষেধাজ্ঞা ও বোমা মেরে কোনো জাতিকে দিয়ে জোর করে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব নয়।
পরিশেষে, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি ইরানকে দুর্বল করার বদলে বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
.png)