ইরানে চীনা অস্ত্রের গোপন চালান? ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং মূলত কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, চীন এই অস্ত্রের চালানের উৎস গোপন রাখতে সরাসরি পাঠানোর বদলে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান চলমান যুদ্ধবিরতির সময়টিকে তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে, যেখানে তাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে চীন সহায়তা দিচ্ছে।
তবে বেইজিং এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, চীন এই সংঘাতের কোনো পক্ষকেই অস্ত্র সরবরাহ করেনি এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এই খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি আরও যোগ করেন, একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে চীন সবসময় আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই ধরণের অতিরঞ্জিত প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
এমন এক সময়ে এই গোয়েন্দা তথ্য সামনে এল, যখন আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে ইরানের পক্ষে স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতৃত্ব দেবেন। শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে চীনা অস্ত্রের এই গুঞ্জন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
.png)