Gemini said
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা: অনিশ্চয়তায় শান্তি প্রক্রিয়া
দীর্ঘ ছয় সপ্তাহব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মেঘ কাটেনি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই লেবাননজুড়ে স্মরণকালের ভয়াবহতম বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফলে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
হামলার ভয়াবহতা ও হতাহত: যুদ্ধবিরতি চলাকালীন গত বুধবার রাতে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১০০টি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এই তণ্ডবলীলায় এখন পর্যন্ত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলো রক্তাক্ত মানুষে ভরে গেছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতের সংখ্যা এতই বেশি যে তা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা লেবানন সরকারের নেই।
অর্থনৈতিক প্রভাব: যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার থেকে কমে ৯২ ডলারে নেমে এসেছিল। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকায় এবং হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি সচল না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুনরায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমার ঠিক আগে যুদ্ধবিরতি আসলেও ইসরায়েলের এই 'হত্যাযজ্ঞ' পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইরান জানিয়েছে, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে তারা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে এসে পুনরায় ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই একতরফা হামলা স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
