বিশ্বের ২০% জ্বালানি পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাড়াকাড়ি; ইসলামাবাদ বৈঠকে মিলবে কি সমাধান?

 

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ভবিষ্যৎ শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি নিয়ে কাটছে না উদ্বেগের মেঘ। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

পর্দার আড়ালের সমীকরণ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরমসীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই যুদ্ধবিরতি আসে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে রাজি হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে হলে ইরানি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ‘সমন্বয়’ করতে হবে। অর্থাৎ, পরোক্ষভাবে এই কৌশলগত পথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই থেকে যাচ্ছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ: বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব ও তার সহযোগীদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত একটি রাজনৈতিক সাফল্য পেতে গিয়ে ইরানের এই একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি মেনে নিতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে এই জলপথের ওপর কর্তৃত্ব দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইরানের ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’-এর শিকার হতে পারে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) দেশগুলো এই সাময়িক শান্তিকে স্বাগত জানালেও একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক এই জলপথকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা সামরিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। আগামী সপ্তাহে ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় হরমুজ প্রণালির ভাগ্য নির্ধারণই হবে বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

Post a Comment

Previous Post Next Post