বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়ে ভারত ও রাশিয়ার সামরিক সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত ১২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এক ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে এখন থেকে দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সেনা সদস্য, যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক বিমান মোতায়েন করতে পারবে। এই চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার সেনা, ১০টি বিমান এবং ৫টি রণতরী একই সাথে দুর্যোগ মোকাবিলা বা যৌথ মহড়ার প্রয়োজনে একে অপরের সহযোগিতা নিতে পারবে। এর ফলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে যেমন ভারতীয় রণতরী ভিড়তে পারবে, তেমনি ভারতের আকাশসীমায় রুশ যুদ্ধবিমানের চলাচল ও রসদ গ্রহণ অনেক সহজ হবে।
প্রতিরক্ষা খাতের এই দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা এস-৪০০ (S-400) অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট মিসাইল সিস্টেম সরবরাহের কাজও এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাকি সরঞ্জামগুলো ভারতের হাতে পৌঁছে যাবে। এই মিসাইল সিস্টেম ভারতের আকাশপথকে আরও সুরক্ষিত করবে।
সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি সুখোই-৫৭ ফাইটার জেট এবং একে-২০৩ রাইফেল তৈরির মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গোপনীয় প্রকল্পগুলোতেও দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমাদের নজরদারি ও চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সাথে ভারতের এই নিবিড় সামরিক মৈত্রী বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও শক্তিশালী মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে একে অপরকে দেওয়া এই বিশেষ ছাড় দুই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতে আরও টেকসই ও অপরাজেয় করে তুলবে।
.png)