হামলায় বিধ্বস্ত রেল যোগাযোগ দ্রুত সচল করল ইরান: নেপথ্যে বড় চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নিজেদের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করে চমক দেখিয়েছে ইরান। যুদ্ধবিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়েছে। আলজাজিরার তথ্যমতে, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আজারবাইজান অঞ্চল থেকে রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বের মাশহাদগামী ট্রেনগুলো এখন নিয়মিত চলাচল করছে। বিশেষ করে ইশফাহান প্রদেশের কাশান শহরের ক্ষতিগ্রস্ত ইয়াহইয়া আবাদ সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের দৃশ্য প্রকাশ পেয়েছে, যা দ্রুত পুনর্গঠনের একটি বড় প্রমাণ। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পুরোপুরি ঠিক হতে তিন মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ইরান সরকার।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটির মতে, এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি সংকট, খাদ্যের অভাব এবং প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সারা বিশ্বে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে। মূলত ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের ফলে দীর্ঘদিনের অর্জিত উন্নয়ন থমকে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে পড়েছে।
.png)